অনলাইনে আয় করার নির্ভরযোগ্য ২১ টি উপায় [১ম পর্ব] – ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার

১) পিটিসি সাইট থেকে আয় করুন

আপনি যদি অনলাইনে অর্থ উপার্জন করার চেষ্টা করে থাকেন এবং খুব সহজ এবং ঝামেলা ছাড়া কিছু টাকা ইনকাম করতে চান এই যেমন ১০০ ডলার বা তার কম তাহলে আপনার জন্য পিটিসি সাইটগুলো হতে পারে সর্বোত্তম উপায়।

পিটিসি (PTC) মানে হল (Paid To Click) পেইড টু ক্লিক। মানে আপনি এই সাইটগুলো তে যতগুলো অ্যাডে ক্লিক করবেন তার বিপরীতে আপনি নির্দিষ্ট ডলার পাবেন। পিটিসি সাইটে আপনাকে বিজ্ঞাপনের লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে এবং ১০ থেকে ৩০ সেকেন্ডের জন্য বিজ্ঞাপন দেখতে হবে। আপনার দেখা প্রতিটি বিজ্ঞাপনের জন্য পিটিসি সাইট আপনাকে অর্থ প্রদান করবে।

অনেক সাইট আছে যেখানে আপনি বিনামূল্যে নিবন্ধন করে এবং বিজ্ঞাপন দেখে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। এই পিটিসি সাইটগুলো থেকে আপনি কোন টাকা ইনভেস্ট না করেই ইনকাম করতে পারেন আবার চাইলে কিছু টাকা খরচ করে রেফারেল কিনে ইনকাম বাড়াতে পারেন।

২) জিপিটি (GPT) সাইট থেকে আয় করুন

আরো বেশি অনলাইনে আয় করতে যোগ দিতে পারেন জিপিটি সাইটে। জিপিটি সাইটে আপনি ছোট ছোট সার্ভে করে, ভিডিও দেখে, গেম খেলে এবং এই ধরনের আরও অনেক কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

আমি অনেক গুলো GPT সাইটে কাজ করেছি তাই আপনাকে শুধু ঐ সাইট গুলোতে কাজ করতে বলবো যারা তাদের সদস্যকে সময়মত পেমেন্ট করে।

নিচের লিংক থেকে জিপিটি সাইট থেকে আয়ের বিস্তারিত দেখে নিন আর সাইনআপ করে কাজ শুরু করুন আজই। আর পেপ্যাল, পাইজা, চেক বা ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে আপনার পেমেন্ট উঠাতে পারবেন।

৩) ক্যাপচা সলভ করে আয়

আপনার যদি হাতে আরও বেশি সময় থাকে তবে আপনি ক্যাপচা সলভার(captcha solver) হিসাবে অনলাইনে আরও বেশি ইনকাম করতে পারবেন। আর ক্যাপচা সলভার অনলাইন অর্থ উপার্জন সবচেয়ে সহজ উপায় গুলোর অন্যতম একটি কাজ।

একজন ক্যাপচা solver হিসাবে, আপনাকে ক্যাপচার ইমেজ পড়ে বুঝতে হবে এবং সঠিক অক্ষর বা চিহ্ন লিখতে হবে। ভাল আয়ের জন্য আপনাকে খুব দ্রুতই টাইপ করতে জানতে হবে।

আপনি প্রতি ১০০০ ক্যাপচা সমাধান করে $ ২ পর্যন্ত ইনকাম করতে পারবেন।

আপনি যদি ক্যাপচা সমাধান করতে আগ্রহী হন তবে Kolotibablo, MegaTypers, CaptchaTypers, ProTypers, Captcha2Cash, 2Captcha, Qlinkgroup, VirtualBee, FastTypers, PixProfit, এই  ক্যাপচা সাইট গুলোতে সাইনআপ করে কাজ শুরু করতে পারেন।

 

৪) জরিপ বা সার্ভে থেকে ইনকাম করুন

কোন প্রতিষ্ঠানের বা ব্র্যান্ডের পণ্যের উপর ৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় নিয়ে সার্ভে বা জরিপ করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। অনলাইন সার্ভে করে আপনি উপরের যে কোন উপায় থেকে আরও বেশি আয় করতে পারবেন।

সার্ভে করার জন্য আপনাকে উক্ত পন্য বা সেবা সম্পর্কে মতামত দিতে হবে। সার্ভে বা জরিপের ক্ষেত্রে আপনাকে শুধুমাত্র প্রশ্ন থেকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী উত্তর নির্বাচন করতে হবে, অতিরিক্ত কিছুই লিখতে হবে নেই।

জরিপের দৈর্ঘ্য, আপনার প্রোফাইল এবং আপনি যে দেশে বসবাস করছেন তার উপর নির্ভর করে আপনি প্রতিটি সার্ভের জন্য $ ১ থেকে $ ২০ ইনকাম করতে পারেন।

 

৫) অ্যাডসেন্স এবং অন্যান্য বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক থেকে আয়

যদিও এই তালিকায় আমার সবচেয়ে প্রিয় উপায় এটি কিন্তু আমি এটিকে ৫ নাম্বারে রেখেছি কারণ এটি অন্য ৪টি উপর থেকে একটু কঠিন এবং গুগল অ্যাডসেন্স থেকে টাকা ইনকাম করতে বেশ সময় লাগে।

সারা পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট ওনার তাদের সাইট দিয়ে মাসে হাজার থেকে লক্ষ ডলার ইনকাম করছে। গুগল অ্যাডসেন্স থেকে টাকা ইনকাম করতে আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকতে হবে (অবশ্য চাইলেই যে কেউ এখন নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারে) এবং কিছু ট্রিকস অবলম্বন করে ওয়েবসাইটে ট্র্যাফিক বা ভিজিটর আনতে হবে তাহলে আপনি গুগল অ্যাডসেন্স এবং অন্যান্য বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

অনলাইনে প্যাসিভ ইনকামের এটাই সবথেকে দীর্ঘস্থায়ী উপায়। আপনার যদি ভাল কন্টেন্ট সমৃদ্ধ একটি ব্লগ সাইট বা ওয়েবসাইট থাকে তবে আপনার অনলাইন ইনকাম চলতেই থাকবে। কিছুদিন আগেও বাংলা ওয়েবসাইট বা ব্লগে গুগল অ্যাডসেন্স অনুমোদন ছিল না। কিন্তু গত বছর থেকে গুগল তাদের অ্যাডসেন্সে বাংলা ভাষা তালিকা ভুক্ত করার যে কেউ তার বাংলা ওয়েবসাইট বা ব্লগ দিয়েই টাকা ইনকাম করতে পারে। এছাড়া অন্যান্য বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক যেমন মিডিয়া.নেট, বিডভারটাইজার, ইনফোলিংকস, অ্যাডভার্সাল মাধ্যমে আপনার সাইটে অ্যাড দিয়ে ইনকাম করতে পারেন।

 

৬) অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম

যদি আপনি অনলাইনে টাকা উপার্জনের ক্ষেত্রে খুব সিরিয়াস হয়ে থাকনে এবং যদি পরিশ্রমী আর ধরজশীল মানুষ হন তাহলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আনলিমিটেড ইনকাম করতে পারবেন।

অন্য যে কোন সময়ের তুলনায় মানুষ এখন বেশি অনলাইন শপিং করছে। আর এই অনলাইন শপিংয়ের ঊর্ধ্বমুখী বিকাশের কারণেই আগের তুলনায় এফিলিয়েট মার্কেটিং করে উপার্জন করার সুযোগ বেড়েছে।

ফ্লিপকার্ট, আমাজন, ইবে, ক্লিক ব্যাঙ্ক, সিজে, আলিবাবা ইত্যাদি শত শত অনলাইন মার্কেটপ্লেস আছে যেখানে আপনি অনলাইনে তাদের পন্যের প্রচার করতে পারেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সঠিক পণ্য কেনার জন্য গ্রাহকদের সহায়তা করতে পারেন। পরিবর্তে উক্ত পণ্যের বিক্রয়ের উপর পন্য এবং মার্কেট প্লেস ভেদে আপনি ৪% থেকে ২০% পর্যন্ত কমিশন উপার্জন করতে পারেন।

ওয়ার্ডে এখন এমনও এফিলিয়েট মার্কেটার আছেন যারা প্রতি মাসে হাজার হাজার নয় লক্ষ লক্ষ ডলার ইনকাম করছেন।

 

৭) ফ্রিল্যান্সার হিসাবে আয় করুন

এডসেন্স এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং এর পরে অনলাইন ইনকামের আরেকটি জনপ্রিয় উপায় হল ফ্রিল্যান্সিং। একজন ফ্রিল্যান্সার হিসাবে আপনি অস্থায়ী ভাবে পৃথিবীর নানা প্রান্তের বিভিন্ন ছোট/বড় সংস্থাগুলির সাথে কাজ করতে পারেন এবং তাদেরকে সেবা প্রদান করতে পারেন।

আপনি যে কাজে দক্ষ তার উপর ভিত্তি করে ফ্রিল্যান্সার হিসাবে মাসে $৫০০ থেকে $২০০০+ পর্যন্ত আয় করত পারেন।

কন্টেন্ট লেখা, ওয়েব ডিজাইনার, গ্রাফিক ডিজাইন বা এসইও, ডেটা এন্ট্রি, এপস ডেভেলপমেন্ট এবং আরো অনেক ধরনের কাজ করতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ করার জন্য আপনি  ইল্যান্সার, ফ্রিল্যান্সার ডট কম, ওয়ার্ক এন্ড হায়ার, আপ ওয়ার্ক, পিপল পার আওয়ার এই ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলোর যেকোন এক বা একাধিক সাইটে সাইনআপ করে কাজ শুরু করতে পারেন। তবে একটা কথা বলি যে কোন একটা কাজে দক্ষ হয়ে কাজ শুরু করুন। তাহলে ফ্রিল্যান্সার হিসাবে আপনার সফলতা কেউ আটকাতে পারবে না।

 

৮) ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা ভার্চুয়াল সহকারী হিসাবে ইনকাম করুন

একজন ভার্চুয়াল সহকারী একজন ব্যক্তিগত সহকারীর মতোই, পার্থক্য শুধু যিনি শারীরিকভাবে উপস্থিত না থেকেও অনলাইনে সহকারী হিসাবে কাজ করেন।

ভার্চুয়াল সহকারী হিসাবে আপনাকে যে কাজগুলো করতে হবে তার ভিতর অন্যতম হল ওয়েবসাইট মনিটরিং করা, পরামর্শদান, কন্টেন্ট লেখা, প্রুফরিডিং, পাবলিশিং, মার্কেটিং, কোডিং, ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব রিসার্চ, স্যোসাল মিডিয়া মার্কেটিং সহ আরও অনেক ধরনের কাজ।

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে কাজ করার জন্য অনলাইনে অনেক ওয়েবসাইট আছে যেমন HireMyMom, MyTasker, Zirtual, uAssistMe, 123Employee । এগুলোতে সাইন আপ করে আপনি আপনার অনলাইন ক্যারিয়ার শুরু করে দিতে পারেন।

 

৯) এসইও

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও(SEO) হল অনলাইনে সর্বাধিক জনপ্রিয় একটি কাজ। আপনি যদি এসইও কাজ পারেন তবে আপনাকে অনলাইনে টাকা উপার্জন করার বিষয়ে চিন্তা করতে হবে না।

অনলাইনে হাজার হাজার ওয়েবসাইট এবং কোম্পানি আছে যারা এসইওতে প্রতি মাসে হাজার হাজার ডলার খরচ করে যাতে তাদের ওয়েবসাইটের কীওয়ার্ড গুগল বা অন্য সার্চ ইঞ্জিনের সার্চে প্রথম দেখায়।

আপনি এসইও কাজ শিখতে চাইলে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা এসইও কাজ শেখায় তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আর নিজে নিজে শিখতে চাইলে ইউটিউবে এবং গুগলে হাজার হাজার লেখা আছে সেগুলো দেখে শিখতে পারেন।

 

১০) কন্টেন্ট রাইটিং বা লেখালেখি

ইন্টারনেটে অর্থ উপার্জন করার অন্য আরেকটি জনপ্রিয় উপায় হল বিভিন্ন ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য কন্টেন্ট লেখা। আপনি বিভিন্ন ব্লগ, কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, পন্য নিয়ে লিখতে পারেন।

বিভিন্ন ধরনের লেখার জন্য কন্টেন্ট রাইটাররা বিভিন্ন পরিমানে পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। তবে সাধারনত কন্টেন্ট রাইটাররা ৫০০ শব্দের কন্টেন্ট এর জন্য ৫ ডলার বা তারও বেশি অর্থ পেয়ে থাকেন।

Sending
User Review
0 (0 votes)